নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিল, আ.লীগ নেতা অজিত দুই দিনের রিমান্ডে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
রাজধানীর কোতয়ালী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ঢাকার কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক অজিত ঘোষ কানাইয়ের (৬২) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইবনে খালিদ হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে অজিত ঘোষ কানাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপনে যেতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তার সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মানিক লাল ঘোষ বলেন, তারা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন গোয়ালনগর এলাকা থেকে অজিত ঘোষ কানাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই কোতয়ালী থানার রায়সাহেব বাজার মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদে জানতে পারে, মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যান্টিন গেটের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জন জড়ো হয়েছেন।
ওই দিন আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় অভিযোগ গঠন এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি ছিল। এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সমবেত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে আটক করা হয়। এ সময় অজিত ঘোষ কানাইসহ অন্যরা পালিয়ে যান।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একত্র হয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বড় ধরনের অঘটন ঘটানোর উদ্দেশ্যে সরকারবিরোধী স্লোগান ও সমাবেশের আয়োজনের চেষ্টা করেন। তাদের কর্মকাণ্ডে জননিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়।