চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১
ডেইলি সান রিপোর্ট, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ এএম
লক্ষ্মীপুরে এক লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে ঢুকে এক ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার মৃত ধনু মিয়ার ছেলে।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেলোয়ার পেট্রোলের বোতল নিয়ে উত্তর তেমুহনী এলাকার কালী বাজার সড়কে ফুড কেমিক্যাল ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের দোকানে ঢোকেন। একপর্যায়ে শাহেদের পাশে বসে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী কৃষ্ণ পালের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন দেলোয়ার পেট্রোলের বোতল নিয়ে তার দোকানে এসে মালামালের ওপর পেট্রোল ছিটিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার পাশে বসে থাকা ব্যবসায়ী কৃষ্ণ পালের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে কৃষ্ণ পালকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়।
এ সময় দোকানের কর্মচারী সোহাগ বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। আশপাশের লোকজন শাহেদকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে দেলোয়ার, তার ছোট ভাই শাকিল ও ভাগিনা মুন্না দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহেদ আলম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে থানায় মামলা করেন। মামলায় দেলোয়ারকে প্রধান আসামি এবং শাকিল ও মুন্নাকে আসামি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ঘটনার পর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি চাঁদা দাবি ও ব্যবসায়ীদের মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।