EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি গঠনের বিল সংসদে পাস

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি গঠনের বিল সংসদে পাস

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

বিলটির ওপর সাতটি আপত্তি জানায় বিরোধী দল। নোট অব ডিসেন্টে বিরোধী সদস্যরা বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিরোধীদের আপত্তির মধ্যে রয়েছে বিলটি দ্রুত পাস, র‍্যাবের জনবল, সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, অভিযোগ তদন্তের কাঠামো, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষমতা, প্রশিক্ষণ এবং বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী সদস্যদের সুরক্ষা।

তাদের আশঙ্কা, স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এসআরবি র‍্যাবেরই নতুন নাম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক দল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শেরও দাবি জানানো হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তিনি বিলটি পাস না করার দাবি জানান।

বিলে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি গঠিত হবে এবং এর সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়।

সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটটি গঠন করতে পারবে। এসআরবির একজন মহাপরিচালক থাকবেন। বাংলাদেশ পুলিশের অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার তাঁকে নিয়োগ দেবে।

এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে থাকবে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন। এ ছাড়া গুম, ভূমিদস্যুতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারবে ইউনিটটি।

আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসআরবি কোনো ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করতে পারবে। ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে।

বিলে এসআরবিকে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে প্রয়োগ করতে হবে। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে রাখা যাবে না; তা অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানার হেফাজতে দিতে হবে।

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। এতে এসআরবির কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, বেতন-ভাতা বা জ্যেষ্ঠতা বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সদস্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে।

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে র‍্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, তহবিল, সম্পদ, চুক্তি, হিসাব, রেকর্ডপত্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবির অনুকূলে স্থানান্তর ও ন্যস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও জাতীয় নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এসআরবি প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য।

আরও পড়ুন