সম্বোধনে ‘মাননীয়’ নয়, অনলাইন হাজিরায় অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারপ্রধান হয়েও দাপ্তরিক নিয়মে কোনো ছাড় নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিয়ে অফিস করছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর কাছে উপস্থাপন করা সরকারি ফাইল ও নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও এসব সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু পরিপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কাছে পাঠানো ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ লেখার পরিবর্তে ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক হাজিরার ক্ষেত্রেও একই ধরনের শৃঙ্খলা অনুসরণ করছেন তিনি। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অনলাইন হাজিরা দেওয়ার পাশাপাশি কাজ শেষে বের হওয়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারপ্রধান হয়েও সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—নিয়ম সবার জন্য সমান। একই সঙ্গে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রীয় কাজে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব ও জনসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই এতে দেওয়া হচ্ছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও বাড়তি আড়ম্বর কমাতেও কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যেই দায়িত্ব পালনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

-6aa274596831e.jpg)