EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর ভারতে, ফেরাতে বড় বাধা ডিএনএ প্রমাণ

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর ভারতে, ফেরাতে বড় বাধা ডিএনএ প্রমাণ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে বছর দেড়েক আগে চুরি হওয়া ‘রিং-টেইলড’ বা ডোরাকাটা লেজের দুটি লেমুর ভারতে পাচার হয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

কর্মকর্তারা বলছেন, একাধিক হাত ঘুরে বিপন্ন প্রজাতির ওই লেমুরগুলো এখন গুজরাতের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছে। সেখান থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ না থাকায় লেমুর দুটি ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাচার হওয়া লেমুর ফিরে পেতে হলে আগে প্রমাণ করতে হবে যে, সেগুলো বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রাণিটির আগের জেনেটিক প্রোফাইল বা ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের সঙ্গে নতুন পরীক্ষার রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা বিজ্ঞানসম্মত উপায় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তবে গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা বলছেন, পাচার হয়ে যাওয়া লেমুর দুটির কোনো ডিএনএ রিপোর্ট তাদের কাছে নেই। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, আরেকটি লেমুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই দুই লেমুরের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে।

চুরি হয়েছিল কীভাবে?

‘রিং-টেইলড’ বা ডোরাকাটা লেজের লেমুর বাংলাদেশের স্থানীয় কোনো প্রাণী নয়। এরা মূলত মাদাগাস্কার দ্বীপের বাসিন্দা। চোরাকারবারিরা বিভিন্ন দেশ থেকে এগুলো ধরে নিয়ে পাচার করে থাকে, যা প্রাণীটির অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে।

২০১৮ সালে বিদেশি পশু-পাখির একটি অবৈধ চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ে। ম্যাকাও, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সঙ্গে এক জোড়া ডোরাকাটা লেজের লেমুর উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। পরে সেই লেমুর জোড়া আরও দুটি বাচ্চা জন্ম দেয়।

২০২২ সালের শুরুতে একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে অবশিষ্ট তিনটি লেমুর একসঙ্গে চুরি হয়ে যায়।

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা এক কর্মীর সহযোগিতায় একটি চক্র এই চুরি করে।

পরে ওই কর্মীসহ চক্রটির আট সদস্যের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাসখানেকের মধ্যে ঢাকার একটি বাসা থেকে চুরি যাওয়া তিনটি লেমুরের একটিকে উদ্ধার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাকি দুটি লেমুর ভারতে পাচার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে সেগুলো ভারতে ঢোকে।

উদ্ধার হওয়া লেমুরটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে ফেরত পাঠানো হলেও কয়েক মাস আগে সেটিও মারা যায়। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন নিঃসঙ্গ থাকার কারণে লেমুরটি মারা গেছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

ভারতে চিহ্নিত হলো কীভাবে?

জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়ার পর থেকেই পাচার হওয়া লেমুর দুটির বিষয়ে অনুসন্ধান করছিল সিআইডি। একপর্যায়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, একাধিক হাত ঘুরে সেগুলো গুজরাতের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রটির নাম ভান্তারা এবং এর মালিকানায় রয়েছে ভারতের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী আম্বানি পরিবার।

তথ্যটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য লেমুর দুটির ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করছিল সিআইডি। এর মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভান্তারার প্রকাশ করা একটি ভিডিও তাঁদের নজরে আসে। ভিডিওতে বেশ কয়েকটি লেমুরকে একসঙ্গে দেখা যায়।

সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, ভিডিওটি সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের দেখানো হলে তাঁরা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত করেন, সেখানে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া দুটি লেমুরও রয়েছে।

ফেরত আসবে?

লেমুরগুলো ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতা চায়। তবে দাবির পক্ষে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হলে দেখা যায়, কিছু ছবি ও ভিডিও ছাড়া সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে শক্ত কোনো প্রমাণ নেই।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, আগে এ ধরনের পাচারের ঘটনা না ঘটায় লেমুরগুলোর জেনেটিক প্রোফাইল বা ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি তাদের মাথায় ছিল না। এ ধরনের পরীক্ষা করার সক্ষমতাও তাঁদের এখনো নেই।

তবে জীবিত থাকা লেমুরটির নমুনা সংগ্রহ করে জেনেটিক প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিআইডির কর্মকর্তা জানান, রিপোর্ট পাওয়া গেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতের লেমুরগুলোর সঙ্গে জেনেটিক প্রোফাইল মিলিয়ে দেখা হবে। যেহেতু তারা একই পরিবারের, তাই মিল পাওয়ার আশা করছেন তারা।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ভান্তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন