ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ ঠেকানো সহজ হবে: আইনমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জাল বিবাহ সনদ ঠেকানো সহজ হবে। একই সঙ্গে বিবাহ ও তালাকের তথ্য দ্রুত যাচাই করা যাবে। পাওয়া যাবে ডিজিটাল সনদও।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো উদ্ভাবনী ধারণা এলে সরকার তা গ্রহণ করে জনকল্যাণে কাজে লাগাতে চায়।
তিনি বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। এ কাজে তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ব্যবহার করা হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলায় অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হবে। এর আওতায় ১০২টি ইউনিয়ন থাকবে।
পাইলট প্রকল্পের উপজেলাগুলো হলো গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর।
প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হবে। এর মাধ্যমে বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে।
ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ ও বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হবে। বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ করা হবে। দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যার তৈরির কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভারও বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও যুক্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পের চুক্তির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
সমঝোতা স্মারকে সই করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।
