অটোরিকশার দখলে নীলফামারীর সড়ক, তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি
ডেইলি সান রিপোর্ট, নীলফামারী
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
নীলফামারী শহরের কেন্দ্রস্থল চৌরঙ্গী মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যত্রতত্র পার্কিং ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দিনের পর দিন এ যানজট বাড়তে থাকায় পথচারী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে শহরের কেন্দ্রস্থল চৌরঙ্গী মোড়, মাধারমোড়, হাসপাতাল রোড, বড় বাজার, ডিসি মোড়, আনন্দবাবুরপুল এবং উত্তরা ইপিজেড এলাকায় দেখা গেছে, নির্ধারিত কোনো পার্কিং স্থান না থাকায় অটোরিকশাচালকেরা রাস্তার ওপরেই সারি সারি অটোরিকশা রেখে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে মূল সড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে সকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকছেন।
নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ইপিজেড এলাকায় প্রধান সড়কের ওপরই সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা পার্কিং থাকে। কোম্পানিগুলোর ছুটি হলে একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষ, শতাধিক মোটরসাইকেল ও অগণিত অটোর দখলে চলে যায় প্রধান সড়কটি। এমনকি জরুরি চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সও মাঝে মধ্যে যানজটে আটকা পড়ছে। ফলে এ এলাকায় যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারীসহ জরুরি প্রয়োজনে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ইপিজেড এলাকায় যাতায়াতের জন্য ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও সেটি যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। এ ছাড়া ভিন্ন দুটি ট্রাফিক লাইন থাকলেও ইপিজেড ছুটির সময়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার চালকেরা সেগুলোর সঠিক ব্যবহার করেন না। ফলে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের পাশাপাশি তাদের মতো ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ইপিজেড এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি প্রাণহানির দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে অনভিজ্ঞ অটোরিকশাচালকদের দৌরাত্ম্য। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে প্রধান সড়কগুলো। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রাণহানির মতো ঘটনাও।
এদিকে, অটোরিকশাচালকদের যত্রতত্র পার্কিং ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছেন নীলফামারী পৌরসভা ও জেলা ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
তবে দুর্ঘটনা এড়াতে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন নির্ধারণের পাশাপাশি উত্তরা ইপিজেড ও জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় ১ কিলোমিটার করে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ শাহীপাড়া মোড়, বাটারমোড়, বাজার ট্রাফিক মোড়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করলে যানজট পুরোপুরি নিরসন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।