EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তামাকের বিষে বছরে ঝরছে ২ লাখ প্রাণ, এসডিজি অর্জনেও বড় বাধা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

তামাকের বিষে বছরে ঝরছে ২ লাখ প্রাণ, এসডিজি অর্জনেও বড় বাধা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

তামাক ও নিকোটিন পণ্যের কারণে দেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু কমানোসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তামাক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে হয়ে থাকে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার। অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু স্বাস্থ্য খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দারিদ্র্য নির্মূল, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ এসডিজির প্রায় সব লক্ষ্য অর্জনেই তামাক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৈঠকে সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। তবে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্য সংশোধিত আইনের আওতার বাইরে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।

তাদের মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব পণ্যের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও সংশোধিত আইনের আওতায় দ্রুত প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

একই সঙ্গে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণের আইন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সুরক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তা এসডিজি অর্জনের পথকে সুগম করবে।”

বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের কষ্ট তামাকের ভয়াবহ পরিণতি চোখের সামনে তুলে ধরে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, এসডিজি অর্জন ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সম্পৃক্ত করে গণমাধ্যমে আরও বেশি প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।

আরও পড়ুন