EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

তিন বছর ধরে থমকে সাক্ষরতার হার, নিরক্ষর প্রায় ৪ কোটি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ এএম

তিন বছর ধরে থমকে সাক্ষরতার হার, নিরক্ষর প্রায় ৪ কোটি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশে গত তিন বছর ধরে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে স্থির রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে এখনো দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ নিরক্ষর।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এখনো বড় একটি জনগোষ্ঠী শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা থেকে বঞ্চিত। ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিন বছরেও অগ্রগতি নেই

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। ২০২১ সালে এ হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা বছর সাক্ষরতা নিয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম খুব একটা দেখা যায় না। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসকে কেন্দ্র করে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হলেও নিরক্ষরতা দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, নিরক্ষর ও বিদ্যালয়বহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না। দারিদ্র্য, ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহও নিরক্ষরতা কমানোর পথে বড় বাধা। সাক্ষরতা কার্যক্রমকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

বড় পরিকল্পনা সরকারের

বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোর ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতার আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

‘অলটারনেটিভ লার্নিং অপরচুনিটি (এএলও)’ কার্যক্রমের আওতায় ৬৪ জেলার ৬৪টি নির্বাচিত উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ‘স্কিলফো’ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন বছরে এক লাখ কিশোর-কিশোরীকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০ জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন