সংসদে সেই গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে বিতর্ক হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বাকযুদ্ধের সৃষ্টি হয়।
আলোচনার সূত্রপাত হয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি যখন বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম পূর্বে কয়েকটি স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতার চিঠি ও অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার পদ বহাল থাকে, ততক্ষণ সব সদস্যকে কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং তাদের অবদান রাখার সুযোগ দেওয়া স্পিকারের দায়িত্ব।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পরপরই কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, তাদের কোটা থেকে গাজী নজরুলকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলেই তারা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তাকে প্রস্তাব করা হয়নি এবং যেহেতু নৈতিক কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে তাকে কোনো কমিটিতে না রাখাটাই সঙ্গত ও নৈতিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ যেহেতু আছে, তাই তাকে বাদ দেওয়াটাই একটি ভালো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লোর নিয়ে বলেন, গাজী নজরুল যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ টেনে বিরোধী দল স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিলে তার আসন শূন্য হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যাকে দল থেকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে যে দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ফ্লোর ক্রসিং করেছে তা নতুন করে দাবি করার সুযোগ তাদের নেই। ভোটদানে বিরত থাকা ফ্লোর ক্রসিং নয়। ফলে এটা ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে না।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তিনি দাবি করেন, ভিডিওর নারীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে দলীয় ভাবমূর্তি ও নৈতিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
