EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাল্যবিবাহ নারীর বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা: মাহ্দী আমিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

বাল্যবিবাহ নারীর বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা: মাহ্দী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাল্যবিবাহ সামাজিক সংকট তৈরি করে এবং নারীর শিক্ষা ও বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ এবং মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, অনেক পরিবার মনে করে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলে একটি সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে এর মাধ্যমে আরও বড় সংকট তৈরি হয়। দারিদ্র্য কোনো শিশুর শৈশব ও শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না।

তিনি বলেন, কন্যাসন্তানকে সুরক্ষা, মর্যাদা ও যথাযথ শিক্ষা দিয়ে বড় করা হলে একসময় সে পরিবারের বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তাই মেয়েদের বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে।

নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেয়েদের সাফল্য এর প্রমাণ। মাঠ প্রশাসন, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মেয়েরা সুশিক্ষা ও সমঅধিকার পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হবে এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে।

নারী শিক্ষার প্রসারে অতীতে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই সময়ে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার তা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র নারী মন্ত্রণালয় গঠন এবং তৈরি পোশাক খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনজন মানুষ—মা, স্ত্রী ও কন্যা—তিনজনই নারী বলে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তাই নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, অনেকে না বুঝে বাল্যবিবাহকে ভালো কাজ মনে করে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেন। এ সমস্যা দূর করতে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, মায়েদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে নেওয়া সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারের শিশুদের জন্য প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বাল্যবিবাহের কারণ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের ঝরে পড়া বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। তাই অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতি ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বয়স বাড়িয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে মাহ্দী আমিন বলেন, যে বয়সে একটি মেয়ের হাতে খাতা-কলম থাকার কথা, সে বয়সে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি।

তিনি বলেন, শৈশব প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। কোনো অর্থনৈতিক সংকট বা সামাজিক চাপ যেন কোনো মেয়ের স্বপ্ন ও শৈশব কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) নীলিমা ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি গান, ভিডিও ও পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট প্রদর্শন করা হয়। একটি প্রচারণামূলক গানে বাউল শিল্পী আলেয়া বেগম ও র‍্যাপার আলী হাসান অংশ নেন।

আরও পড়ুন