EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ
অ অ

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ইইউ চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। বাকি বিষয়গুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা জানায়। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

সমাধান হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা। এ ছাড়া বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতাও দূর করা হয়েছে। এর যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও সমাধান করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এ ক্ষেত্রে ইইউর শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ আলোচনায় ইইউর ইতিবাচক সাড়া

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এফটিএ ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সদস্যদেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন হয়ে গেলে চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।

মাইকেল মিলার বলেন, দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এয়ারবাস কেনার আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ জানান তিনি।

জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আমদানি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আমদানি সিদ্ধান্ত নেয়।

জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের মান এবং অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনার পর সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাবে পরিচালিত হয় না। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই এসব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।

রপ্তানি ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ

বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধ ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্পও এতে লাভবান হতে পারে।

বাণিজ্য বাধাগুলো দূর হলে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন