বিড়ালকে খাবার দেওয়ায় হামলার অভিযোগ, বারিধারা ডিওএইচএসে মানববন্ধন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
‘প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা—মানি না, মানবো না’ স্লোগানে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পশুপ্রেমীরা। পথবিড়ালকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের হামলায় এক নারীসহ চার বাসিন্দা আহত হওয়ার অভিযোগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৭ আগস্ট রাতে বারিধারা ডিওএইচএসের পার্কের কাছে পথবিড়ালকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে নারীসহ চারজন আহত হন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী অথৈ নীলিমা বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি নিজ বাসা থেকে বের হতেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার দিন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া, চুল ধরে টানাটানি ও মারধর করা হয়।
অথৈ নীলিমার ভাষ্য, ২০২১ সালে বারিধারা ডিওএইচএসে আসার পর তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করতেন। তবে পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত দিন পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী বাসিন্দা আকিবুর রহমান খান বলেন, ঘটনার রাতে তাঁরা অনুমতি নিয়ে পার্কের পাশে থাকা পথবিড়ালকে খাবার দিতে গিয়েছিলেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর ছোট ভাই রাফিদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আকিবুর রহমানের অভিযোগ, রাফিদকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকেও মারধর করা হয়। এতে তাঁর পায়ের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর পরিষদের পক্ষ থেকে তিনটি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া, হামলায় জড়িত নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং বিড়ালকে খাবার দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান বা ফিডিং স্টেশন স্থাপন। তাঁর দাবি, মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও বাকি দুটি বিষয়ে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িত নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, বিড়াল ও কুকুরকে খাবার দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফিডিং স্টেশন স্থাপন, আগে বারিধারা ডিওএইচএস থেকে সরিয়ে নেওয়া ১০ থেকে ১২টি টিকাপ্রাপ্ত কুকুরের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ এবং বর্তমান পরিষদের সভাপতির পদত্যাগ।
বক্তারা বলেন, প্রাণীকে খাবার দেওয়া নিয়ে আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু এ কারণে কোনো বাসিন্দার ওপর শারীরিক হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রাণীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, নিয়ম মেনে খাবার দেওয়া এবং খাবার দেওয়ার পর স্থান পরিষ্কার রাখার বিষয়েও তাঁরা সহযোগিতা করার কথা জানান।
মানববন্ধনে স্থানীয় পশুপ্রেমীরা অভিযোগ করেন, এর আগেও বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি কুকুর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রায় ১২টি কুকুর সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সিটি করপোরেশন কুকুরগুলো সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে পশুপ্রেমীদের দাবি, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এমন কোনো কুকুর সরিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন। কোনো প্রাণীকে পছন্দ না হলেও তার ওপর নিষ্ঠুরতা কিংবা প্রাণীকে খাবার দেওয়া মানুষকে হেনস্তা করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।