জীর্ণশীর্ণ ক্লিনিকে ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা
মো. শাহ্ জালাল, মনিরামপুর
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। ছবি: ডেইলি সান
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্লিনিকের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, কলাম, বিম ও ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ভাঙন। এর ওপর তিন পাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কচুরিপানায় ভরে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ক্লিনিকের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে। মাঝেমধ্যে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ও ঢুকে পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।
জানা গেছে, উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে হাজিরহাট-নেহালপুর সড়কের পূর্ব পাশে ১৯৯৯ সালে পাঁচ শতক জমির ওপর নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মাণ করা হয়। পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়ীয়া, নেবুগাতী, কুচালীয়া ও দিগঙ্গা গ্রামের শিশু, নারীসহ প্রায় সাত হাজার মানুষ এ ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেন।
দুই কক্ষের ক্লিনিকটির ভবন দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ার পাশাপাশি কলাম, বিম ও ছাদেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্লিনিকের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে জলাবদ্ধতার কারণে কচুরিপানা জন্মেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ক্লিনিকের ভেতরে পানি জমে যায়।
বর্তমানে ক্লিনিকটিতে তিনজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিঠুন বিশ্বাস সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) তুলি রায় রোববার ও মঙ্গলবার এবং স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) হাবিবুর রহমান শনিবার ও বুধবার রোগীদের সেবা দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ দুই কক্ষের একটি কক্ষে সিএইচসিপি মিঠুন বিশ্বাস রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় অভিজিৎ মণ্ডল জ্বর ও শরীরব্যথার চিকিৎসা নিতে আসেন। তাকে প্যারাসিটামলসহ তিন ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়।
অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আবার ক্লিনিকের ভেতরে পানি উঠে যায়। তারপরও এখান থেকে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে।’
দিগঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ লক্ষ্মী রানী মণ্ডল চুলকানির ওষুধ নিতে এসে বলেন, ‘ক্লিনিকটি ভাঙাচোরা হওয়ায় বসার জায়গা নেই। একমাত্র বাথরুমটিও ব্যবহারের অনুপযোগী। এতে বিশেষ করে নারী রোগীদের ভোগান্তি হয়।’
সিএইচসিপি মিঠুন বিশ্বাস বলেন, ক্লিনিকে ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে বর্ষা মৌসুমে ক্লিনিকের ভেতরে পানি উঠে যায়। মাঝেমধ্যে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ও ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ হোসেন ফয়সাল বলেন, নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, ‘অতিশিগগিরই ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
