ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা, নেপথ্যে আসিফ?
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা থেকে প্রকল্পটির ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
অভিযোগ আছে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়টিও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।
শুরুতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় প্রথম সংশোধনে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ব্যয় আরও বাড়িয়ে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা করা হয়।
প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে এখন অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পে সায়েদাবাদ প্রকল্পের তুলনায় বেশি পানি শোধন ক্ষমতা রয়েছে।
পাশাপাশি এ প্রকল্পে পাইপলাইনও দীর্ঘতর। অথচ এর ব্যয় সায়েদাবাদ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এ কারণে সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয় এতটা বাড়ল কীভাবে, প্রকল্পের অগ্রগতি কম থাকা অবস্থায় কেন ব্যয় বাড়ানো হলো এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা থাকাকালীন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সায়েদাবাদ প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করার কথা রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে।