EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জমি নিবন্ধনে অতিরিক্ত অনুমতির জটিলতা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা

হাবিবুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার)

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

জমি নিবন্ধনে অতিরিক্ত অনুমতির জটিলতা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা
অ অ

কক্সবাজারের টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন মৌজায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ক্রয়-বিক্রয় ও দলিল নিবন্ধনের আগে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। এ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত দলিল লেখক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

দলিল লেখক ও সচেতন মহলের দাবি, জমির মালিকানা, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পরও পৃথকভাবে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হচ্ছে। এতে জমি নিবন্ধনে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্বানুমতির মেয়াদ তিন মাস হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা না গেলে পুনরায় অনুমতি নিতে হয়। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

দলিল লেখক ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী। বর্তমান বাস্তবতা ও বিদ্যমান ভূমি ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় অতিরিক্ত এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া দলিল লেখকসহ টেকনাফের ১৩ জন সচেতন নাগরিকের পক্ষ থেকেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

দলিল লেখক ফেরদাউস ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের দায়িত্বে হস্তক্ষেপ নয়; বর্তমান আইন, নীতিমালা ও বাস্তবতার আলোকে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করাই আমাদের দাবি।’

দলিল লেখক সমিতির অর্থ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমতির বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও দলিল সম্পাদনে অতিরিক্ত প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় সরকারকে দ্রুত এ জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কামনা করছি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি ফিরবে।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে কক্সবাজারে সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, ২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজারের পরিকল্পিত পর্যটন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নির্মাণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি কার্যকর করা হয়। সে সময় পর্যটন, পরিবেশ, ভূমি ব্যবহার ও পরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আওতাধীন উন্নয়ন ও নির্মাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান আইন, নীতিমালা ও বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন