অনুকূল পরিস্থিতিতে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সময় অনুকূল হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যাব—এটা ঠিক আছে। কিন্তু কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।’
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এ কারণে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এখন আলোচনা চলছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সময় অনুকূল হলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।’
ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশ যেমন আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকেও ভারত তাদের ভূখণ্ডে আশ্রয় দেবে না বলে ঢাকা প্রত্যাশা করে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব ও গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ জন্য যাত্রীসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট ও এয়ারক্রাফট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের চাহিদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।