যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী-শ্বশুর গ্রেপ্তার
ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মিম খাতুনকে (২৩) নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাবতলী উপজেলার বাওইটোনা গ্রামের সোহেল রানা (৩২) ও তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন (৫৮)। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের গাবতলী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। র্যাব-১২-এর বগুড়া কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সোহেল রানার সঙ্গে মিম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনেপক্ষ নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেয়।
বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবিতে মিমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মিম বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে কৌশলে তাঁকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য, গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোহেল রানা তাঁর শাশুড়ি সোলেনা বেগমকে (৪৬) ফোন করে জানান, মিম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ সময় মিমের মা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর সোহেল ফোন করে জানান, অসুস্থ অবস্থায় মিমের মৃত্যু হয়েছে।
মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে মিমের বাবা গাবতলী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ৭ আগস্ট দায়ের করা ওই মামলায় সোহেল রানা ও জামাল উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই র্যাব-১২ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, মামলার এজাহারভুক্ত প্রথম ও দ্বিতীয় আসামি শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকায় অবস্থান করছেন।
এর ভিত্তিতে সোমবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়ার একটি দল গাড়ীদহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা ও তাঁর বাবা জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে গাবতলী থানা-পুলিশ তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।