হিটু শেখ নিজেই দায় স্বীকার করেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
নির্মম আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের স্বেচ্ছায় দেওয়া জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আছিয়া তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুরের ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার শিকার হন। পরে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত বছরের ১৩ মার্চ মারা যান তিনি।
মামলার আসামি হিটু শেখ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং দায় স্বীকার করেন। পরে বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে মামলা হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রায়ে আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। নিম্ন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি বলে আদালত মন্তব্য করেছেন। সাক্ষীদের আরও দক্ষভাবে জেরা করা হলে আসামিপক্ষ কিছু সুবিধা পেতে পারত বলেও আদালত উল্লেখ করেন। তবে এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মূল রায়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, হাইকোর্ট আসামির জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। হিটু শেখ নিজেই আট বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা, তাকে আহত করা এবং পরে শ্বাসরোধ করার বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আসামির পরিহিত লুঙ্গিতে বীর্যপাতের আলামত পাওয়া যায় এবং ডিএনএ পরীক্ষায় সেটির সঙ্গে মামলার আলামতের মিল পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হিটু শেখ একটি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামির স্বীকারোক্তির পাশাপাশি মামলায় অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণও রয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রতিবেশী জোহরাসহ কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। সবকিছু পর্যালোচনা করেই আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।