সারের সংকট কোথায়? কৃষিমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, বেশি দামে বিক্রি করলেই ব্যবস্থা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর দেশের চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়। এরপরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকের উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সরকার তা করবে। কৃষকের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি হবে।’
সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়। তাই দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলার সার ডিলারদের সতর্ক করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কোনো ডিলার বরাদ্দের সার সময়মতো না তুললেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের কাছে নির্ধারিত দামে ও সময়মতো সার পৌঁছে দিতে ডিলারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
কৃষিপণ্যে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন আমদানি করতে না হয়, সেটিই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে দেশের মাটির গুণগত মান আগের মতো নেই। তবে ফরিদপুরের মাটি এখনো দেশের অন্যতম উর্বর মাটি। ফলে এ জেলার কৃষিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ফরিদপুরের চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডাল, রসুন, পেঁয়াজ ও পাটবীজের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশি মাছের চাষ সম্প্রসারণ, চরাঞ্চলে শাকসবজি উৎপাদন এবং ছাগল পালন ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে উন্নতমানের পাটবীজ, নতুন অ্যাগ্রো-ফ্রা মেশিন ও চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
বিকেলে জেলার কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় সংরক্ষিত পেঁয়াজ ও শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন খামারও পরিদর্শন করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরব হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।