তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: চিফ হুইপ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হবে।
বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। সংসদীয় কমিটি, বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে কথা বলেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত বিল রয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রাখবেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছেন। তাদের আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন করা হবে। বিদ্যমান আইনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি বা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন এবং জামায়াত থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে নেওয়া হবে।
চিফ হুইপ বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন।
সংসদে সক্রিয় বিরোধী দল চান
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি।
তিনি আশা করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে তুলে ধরবে। আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদের বাইরে আন্দোলন করে আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করা হবে না। ১৭ বছর ধরে জেল, গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে অর্জন এসেছে, তা অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।
সংকট সমাধানে সময় প্রয়োজন
চলমান সংকট মোকাবিলায় সময় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন চীফ হুইপ। তার ভাষ্য, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগে।
বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানেও সময় প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
তার মতে, অস্থিরতা সৃষ্টি হলে এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের হবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর।
বিদ্যুৎ চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি দায়
বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় তৈরি করেছে।
তার অভিযোগ, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার কারণে এসব চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ায় জনগণের অর্থের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।
দেশের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন চীফ হুইপ।
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।