EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তথ্য উপদেষ্টা

দুই বছরেও গ্যাস উত্তোলনে উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

দুই বছরেও গ্যাস উত্তোলনে উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার

প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

গ্যাস সংকট বহু বছরের পুরোনো সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ থাকলেও প্রায় দুই বছর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারও নতুন গ্যাসের সন্ধানে উদ্যোগ নেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের গ্যাস সংকট বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও প্রায় দুই বছর দায়িত্বে থাকলেও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের চেষ্টা করেনি।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হওয়ায় তারা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল। গত বছর গ্যাসের দাম ১২ থেকে ১৪ ডলার থাকলেও এ বছর তা বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।

বর্তমান গ্যাস সংকট নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া এফএসআরইউ মেরামত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে গ্যাসের যে কার্গো রয়েছে, সেটি সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কার্গো সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গ্যাস সংকট অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানা চালু রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগের কথাও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সারের মজুদ পর্যাপ্ত

দেশে সারের সংকট নেই বলেও জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার এসব বিষয় আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ও জনগণের স্বার্থেই এ পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, সারের ঘাটতি এড়াতে সরকার বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। সম্প্রতি ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইউরিয়া সার ৪ দশমিক ৮২২ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯ লাখ, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮ লাখ এবং এমওপি ১ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ আছে।

আরও পড়ুন