EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দূষণ বন্ধ না হলে নদী রক্ষা সম্ভব নয়: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

দূষণ বন্ধ না হলে নদী রক্ষা সম্ভব নয়: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
অ অ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্লাইমেট কোঅপারেশনের (এসএআরসিসি) সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘কো-ডিজাইন দ্য ফিউচার অব সাউথ-এশিয়ান ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ প্রতিপাদ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করতে হবে। নদীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তবে শুধু আলোচনা বা প্রকল্প গ্রহণ করে নদী রক্ষা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দূষণের উৎস বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীকে রক্ষা করা যাবে না।

নদীতে দূষিত পানি ও বর্জ্য পড়া বন্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সার্ক ও বিমসটেককে সক্রিয় করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। এটি আন্তদেশীয় সমস্যা।

এ সমস্যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও ঝুঁকিমুক্ত বিশ্ব গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সাইমুম পারভেজ।

তিনি বলেন, জলবায়ু কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোনো দেশের সঙ্গে শত্রুতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু, পানি ও নদীসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আন্তদেশীয় নদীব্যবস্থাপনার সংকট সমাধানে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যথেষ্ট নয়। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা বাড়াতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, আন্তসীমান্ত বায়ুদূষণ বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন কানেক্টিভিটি, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে যৌথ দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন তাঁরা।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান উন্নয়ন বাস্তবতার অংশ। তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, হিমবাহের পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব জাতীয় সীমানা অতিক্রম করছে।

এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত, আঞ্চলিক ও ভবিষ্যতমুখী উদ্যোগ জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাবিব রহমান। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন হিউম্যান সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ মুকিত এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

আলোচনায় আরও অংশ নেন সিসিডিবির জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির সমন্বয়কারী মো. আশরাফুজ্জামান খান, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু, হেলভেটাস বাংলাদেশের ওয়াটার, ফুড অ্যান্ড ক্লাইমেট কর্মসূচির প্রধান মাহমুদুল হাসান তারেক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের সহকারী পরিচালক শারমিন নাহার নিপা এবং সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার।

এ ছাড়া ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী শাহীন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. হাসিব মো. ইরফানউল্লাহ এবং উন্নয়ন অন্বেষণের পরিচালক এস এম মনজুর রশিদ আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন