EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

১০ বছরেও মেলেনি যাদুকাটা সেতুর সুফল, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

১০ বছরেও মেলেনি যাদুকাটা সেতুর সুফল, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন অসম্পূর্ণ সেতু, যার কাজ শেষ হতে লাগবে আরও দুই বছর।

অ অ

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন জেলার দীর্ঘতম সেতুর কাজ ৩০ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও সম্পন্ন হয়নি। দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাকী ৩০ শতাংশের জন্য এবার নতুন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটির কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন চারটি উপজেলার লাখো মানুষ।

জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি ও বিন্নাকুলী গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দীর্ঘ ‘শাহ আরেফিন (র.) ও অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু’র নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেতুটি এখনো অসম্পূর্ণ।

৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই সেতুটির ১৫টি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৫৩টি এবং ১৫টি স্ল্যাবের মধ্যে ১০টি বসানো হয়েছে। কাজের চরম ধীরগতি ও বারবার সময় বাড়ানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনস্ট্রাকশন’-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করেছে এলজিইডি।

এর মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। গত ১৭ মে ভোররাতে সেতুর পূর্ব পাশের তিন ও চার নম্বর পিলারের ওপর থাকা ৫টি গার্ডার ভেঙে পড়ে। এর আগে ২০২২ সালেও একই পাশে দুটি গার্ডার নদীতে ভেঙে পড়েছিল।

সেতুটি অসম্পূর্ণ থাকায় তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা—এই চার উপজেলার মানুষ জেলা শহরসহ টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুলবাগান, বারেকটিলার মতো পর্যটন স্পট এবং সীমান্ত সড়ক দিয়ে নেত্রকোনা-ঢাকা রুটের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনও। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে, যাতে মাঝেমধ্যে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ছয় বছর ধরেই প্রতিবছর জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তারা দ্রুত কাজ শেষ করে সেতু উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল জানান, দ্রুত কাজ শেষ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছেন। সুনামগঞ্জ এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া চলতি মাসেই শেষ হবে এবং বাকি কাজ সম্পন্ন করতে দুই বছর সময় লাগবে।

আরও পড়ুন