চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ছাড় নয়, মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের মদদদাতা এবং এ কাজে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি শান্তিনগরের পপুলার হাসপাতালের সামনে হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে নিজের চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের হামলার শিকার হন অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে চক্রটির মূল হোতাও রয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং আরেকজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে দেশে ফিরে তিনি একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলেন।
চক্রটি বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের লক্ষ্য করত। প্রথমে তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও বার্তা পাঠানো হতো। পরে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হতো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা করা হচ্ছে না। চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত বা সহযোগিতা করলে তাদের তালিকাও করা হচ্ছে।
অপরাধী বা তাদের মদদদাতারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি মনে করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ করে যেকোনো নাগরিক শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করলে আবেদন করতে পারেন। সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সেই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

