EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেমিট্যান্সের অর্থ এসএমইতে বিনিয়োগের পক্ষে তরুণদের যুক্তিতর্ক

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১ পিএম

রেমিট্যান্সের অর্থ এসএমইতে বিনিয়োগের পক্ষে তরুণদের যুক্তিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অভিবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স কীভাবে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে—এ নিয়ে যুক্তিতর্কে অংশ নিয়েছেন তরুণ বিতার্কিকরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) অনুষ্ঠিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রেমিট্যান্সের অর্থ শিক্ষা, সঞ্চয়, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতা তৈরিতে ব্যবহারের নানা দিক উঠে আসে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত এবং ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি (ডিএফডি) পরিচালিত এ ছায়া সংসদ বিতর্কে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) তরুণ বিতার্কিকরা অংশ নেন। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) বিনিয়োগই উত্তম কৌশল।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল শুধু একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পরিবার, সমাজ ও দেশের বৃহত্তর উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্স বাংলাদেশি অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন। রেমিট্যান্সের একটি অংশ এসএমই খাতে বিনিয়োগ করা হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিতর্কে অভিবাসীদের দেশের ‘প্রকৃত বীর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পায়। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারত।

প্রতিযোগিতায় সরকারি দলের প্রতিনিধিত্ব করা ডিআইইউ বিরোধী দল এসইউবিকে পরাজিত করে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আহমেদ রেজা, বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিক্যাব) সাবেক সভাপতি মাইনুল আলম এবং আইওএম বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (গভর্নমেন্ট লিয়াজোঁ) ড. এস এম মোর্শেদ।

আরও পড়ুন