EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাজারে ইলিশের ‘রাজকীয়’ দাম, স্বস্তি নেই মাংস-ডিমেও

আল-আমিন বিন আলী

আল-আমিন বিন আলী

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

বাজারে ইলিশের ‘রাজকীয়’ দাম, স্বস্তি নেই মাংস-ডিমেও

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

রাজধানীর বাজারগুলোতে ইলিশের দাম এখন মধ্যবৃত্তের নাগালের বাইরে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। ৫০০ গ্রামের ইলিশের দামও ১ হাজার ৩০০ টাকা। আকার আরও ছোট হলে কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। শুধু ইলিশ নয়, মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ দেখা গেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকার নতুন বাজার, হাজী বাজার, মমতাজ বাজার ও ছাপড়া মসজিদ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ছবি: ডেইলি সান

বাজারে মাংসের মধ্যে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৯০ টাকা, পাকিস্তানি জাতের মুরগি ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা, লেয়ার ৩৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে। হাঁসের মাংসের দাম কেজি ৫৫০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দাম বেশি

মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের কারণে আলোচনায় ইলিশ। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। আধা কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা। এর চেয়ে ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে।


অন্যান্য মাছের মধ্যে পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কোরাল ১ হাজার ১০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা ছোট আকারের হলে কেজি ৩০০ টাকা এবং বড় হলে ৩৮০ টাকা।

পাবদা আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, সোল ৭০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, কই ২৪০ টাকা এবং কাচকি ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাইম মাছের দাম আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা।

চিংড়ির বাজারেও দামের বেশ পার্থক্য রয়েছে। বড় আকারের বাগদা ৯০০ টাকা, গলদা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাঁঠালি চিংড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও ছোট আকারের বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ডিমেও স্বস্তি নেই

ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে। বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিমের দাম আরও বেশি। সেখানে ডজনপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।


বাজারভেদে এবং দোকানের ধরন অনুযায়ী এসব পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

‘ইলিশ কিনতে গেলে অন্য বাজারের হিসাব মিলছে না’

নতুন বাজারে মাছ কিনতে আসা ইউছুফ মিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘ইলিশ খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দাম দেখে কিনতে সাহস হচ্ছে না। এক কেজির মাছের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা। এই টাকায় সংসারের অনেক দিনের বাজার করা যায়।’

আরেক ক্রেতা সেলিনা আক্তার বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম তো বেশি, এখন ডিমের দামও বেড়েছে। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বাজার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও আকারভেদে দাম

হাজি বাজারের মাছ বিক্রেতা সোহাগ বলেন, ‘ইলিশের দাম নির্ভর করে আকার, মান ও সরবরাহের ওপর। বড় ইলিশের সরবরাহ কম থাকলে দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। আমরা আড়ত থেকে যে দামে কিনি, তার সঙ্গে খরচ ও লাভ যোগ করেই বিক্রি করি।’


ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজারের মাংস বিক্রেতা রাজু মিয়া বলেন, ‘মাংসের দামে প্রতিদিন খুব বড় পরিবর্তন নেই। তবে গরু, খাসি ও মুরগির ক্ষেত্রে শুক্রবার ৫-১০ টাক বেশি নেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বাজারে মানুষের আনাগোনা বেশি হয়, চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বেশি নেওয়া হয়।’

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় বাড়ার তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেশি হওয়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও ডিম—এই তিন ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় কম আয়ের পরিবারের ওপর চাপ বেশি পড়ছে।

আরও পড়ুন