EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিতে চাই: আইনমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ এএম

আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিতে চাই: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজিয়ে দেশের আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান তারা। এ জন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে ঢাকা ব্যাংকের নতুন উপশাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য পেশাজীবীর মতো আইনজীবীদেরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ বছর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগদানের পর প্রশিক্ষণ নেন এবং বিচারকদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইনজীবীদের জন্য এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সনদ পাওয়ার পর একজন আইনজীবী মূলত সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তবে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান আরও উন্নত করতে বার কাউন্সিলের কার্যকর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ঋণের সব শর্ত পূরণ করার পরও কোনো উদ্যোক্তাকে সময়মতো ঋণের অর্থ না দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অথচ ব্যাংক ওই ব্যক্তির সম্পত্তি বন্ধক হিসেবে রেখে দেয় এবং চেকও নেয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষ কোথায় যাবে, সেই প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

তিনি ব্যাংকিং খাতের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। আইনমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা কোনো ফাইলের প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরে ঋণ বা আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় মামলা হলে স্বাক্ষর থাকার কারণে তাকেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়।

চাকরি রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করা কর্মকর্তাদের এ ধরনের ঝুঁকি থেকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বার কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ অডিটের পাশাপাশি বহিরাগত অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বার কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার বার কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ‘রুলস অব বিজনেস’-এর আওতায় বার কাউন্সিলের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিতে বার কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বা দুর্নীতির জায়গা বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং শিক্ষা, মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম আইন পেশায় আসতে আগ্রহী হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান নেতৃত্ব তরুণ, গতিশীল ও দক্ষ। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বার কাউন্সিলকে আইন শিক্ষার্থী ও তরুণ আইনজীবীদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন