শেরপুরে খাল খনন শেষে ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত
ডেইলি সান রিপোর্ট, শেরপুর
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিকের উদ্যোগে গত ১৩ আগস্ট এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সেচসুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, খালটি পুনঃখননের পর নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি খালে দেশি মাছের প্রাচুর্যও বেড়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করেই খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্প শেষে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা অব্যয়িত ছিল, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মিঠাপানির মাছের উৎপাদনও বাড়বে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া একটি দৃষ্টান্ত। সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। খাল পুনঃখননের ফলে বর্তমানে নৌকা চলাচলের পাশাপাশি দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।