রামগতিতে এসএসসিতে ভরাডুবি, ৪৪ জনই ফেল
৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১০ জন, জিপিএ-৫ পায়নি কেউই
ডেইলি সান রিপোর্ট, রামগতি–কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মাহমুদা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪ জনের মধ্যে ৪৪ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের মাহমুদা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভরাডুবি হয়েছে। এ বিদ্যালয় থেকে এবার ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১০ জন, অর্থাৎ ৪৪ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বছর বিদ্যালয়টির কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় রামগতি উপজেলার একটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জহির উদ্দিন মো. বাবর। ২৭৮ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে মাত্র ৬ জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এই ফলাফল বিপর্যয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। ৫৪ জনের মধ্যে মাত্র ১০ জন উত্তীর্ণ হওয়া এবং ৪৪ জন অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে ওই ইউনিয়নের আরও পাঁচটি বিদ্যালয়—রঘুনাথপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়, চরনেয়ামত জনতা মডেল একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়, সুলতানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্ব চরমেহার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোও এবারের এসএসসি ফলাফলে পাসের হারে পিছিয়ে রয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, একটি বিদ্যালয় থেকে এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন, নিয়মিত পাঠদান ও মূল্যায়ন কার্যক্রম কেমন ছিল এবং পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি কতটা নিশ্চিত করা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁরা প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিভাবকরা জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীরা যেমন দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী শিক্ষকরা। শিক্ষকরা পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেননি। সরকারের বেতনভাতা ভোগ করেও শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করার কারণেই এমন বিপর্যয় হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন মো. বাবর হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘গতবছরও এমন বিপর্যয় হয়েছে। এবারো ঠিক একই পরিস্থিতি। এর জন্য তিনি শিক্ষক সংকটকে দায়ী করেন।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘ফলাফলে ভরাডুবি হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’