পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে একই পরিবারের ৪ জনসহ গ্রেপ্তার ৫
ডেইলি সান রিপোর্ট, নোয়াখালী
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী, তাঁদের দুই ছেলে ও আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরির প্রলোভনে এনে আটকে রাখা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকায় রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার ও তরুণীদের উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। পুলিশ জানায়, তাঁদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নোয়াখালীর ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বেগমগঞ্জ থানা-পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া তরুণীদের একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার তরুণীকে উদ্ধার এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের একটি ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, একটি ছুরি, একটি কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে চৌমুহনীতে এনে একটি বাসায় আটকে রাখা হয়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করা এবং পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধারণ করা ভিডিও একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা হতো। একই বাসায় আরও কয়েকজন তরুণীকেও দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিবাদ করলে তাঁদের শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া তরুণীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।