নারায়ণগঞ্জ
তারাব পৌরসভায় ২ মাস ধরে তীব্র পানির সংকট, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
সহকারী প্রকৌশলী জানান, বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণেই পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, রূপগঞ্জ
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভায় দীর্ঘ ২ মাস ধরে পানির লাইনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় সুপেয় পানির জন্য স্থানীয়দের তীব্র হাহাকার। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে লাইনের পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় খাবার ও নিত্যব্যবহার্য বিশুদ্ধ পানির জন্য এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও কলকারখানার লাখো শ্রমিক।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারাবো, যাত্রামুড়া, বরাবো ও মোগরাকুলসহ বিভিন্ন এলাকার সাবমার্সিবল পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন বন্ধ থাকায় এই হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছে। পানির বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন, আবার অনেকে চড়া দামে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
দৈনন্দিন কাজে পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, পানি না পেলেও প্রতি মাসে নিয়মিত ঠিকই পানির বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সমস্যার কথা জানাতে গেলে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীদের সাথে অসদাচরণ ও টালবাহানা করছেন।
স্থানীয় নাবিল টেক্সটাইলে কর্মরত শ্রমিক শাহজালাল আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের দিনে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর প্রতিদিন পানি কিনে খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সাত দিন ধরে গোসল নাই, খাওয়ার পানি নাই। পৌরসভায় গিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।’
সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর রহমান অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণেই পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নাজমুল হাসান জানান, জ্বালানি সংকটে সারা দেশেই লোডশেডিং বেড়েছে, তবে তারাব এলাকায় গড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা হচ্ছে।
তারাব পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘বিদ্যুৎ স্বল্পতার কারণে সব পাম্প একসাথে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পানি উত্তোলন করে তা সাপ্লাই নিয়মিত রাখার জন্য। পাশাপাশি পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’