১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরব না: বিরোধীদলীয় নেতা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো চাপ বা প্রলোভনেই তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসবেন না।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসতে বিভিন্নভাবে চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হয়েছে। তবে জনগণের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দিতে হলেও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সাল থেকে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব ছিল তরুণ প্রজন্মের হাতে। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দল দাবি করতে পারে না। যারা এমন দাবি করবে, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।
জুলাই আন্দোলনের আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখনো অনেক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে কিংবা ঘরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে আবারও গণআন্দোলন গড়ে উঠবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আপসহীনভাবে চলবে।
সরকারের সমালোচনায় অন্য নেতারা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, সরকারকে বিভেদ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হলেও সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়নি। বিরোধী মত দমনের চেষ্টা চললে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের মানুষ সর্বত্র গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঐক্যের বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে এর রাজনৈতিক পরিণতি হবে গুরুতর।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ থেকে সরে আসতে হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, আইনের কিছু ধারা ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন অভিযোগ করেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এবং জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলও বক্তব্য দেন। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
আরও বক্তব্য দেন
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, সহিংসতা ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুস সবুর ফকির, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।