জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে পিকেএসএফের ‘গ্রিন’ প্রকল্প উদ্বোধন, উপকৃত হবে আড়াই লাখের বেশি পরিবার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ‘গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন (গ্রিন)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১-এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য দেন পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপস্থাপনা করেন পিকেএসএফের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক একিউএম গোলাম মাওলা, মো. মশিয়ার রহমান এবং মুহম্মদ হাসান খালেদ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রকল্পের আওতায় হাওর, উপকূল, বরেন্দ্র ও চরাঞ্চলসহ দেশের ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে প্রকল্পটি।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পে মোট ২১ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) দেবে ৭ কোটি মার্কিন ডলার। বাকি অর্থায়ন করবে পিকেএসএফ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ যৌথ বিনিয়োগ দেশের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবৃদ্ধিনির্ভর অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতকে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থায়ন, কৃষি-পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং সার্কুলার অর্থনীতির প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) ও নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নতুন পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সহযোগী সংস্থাগুলোর নির্বাহী প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপকূলীয় নারীদের জন্য কুটিরশিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ, শিল্পদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, হাওরাঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য বীমা ও ঝুঁকি তহবিল গঠনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরেন।