EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে আরও জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে আরও জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
অ অ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের জনপ্রশাসনকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উদ্ভাবনী, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, শ্রম ও সততার সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ১৪৪তম ও ১৪৫তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রশাসন আর শুধু নথিপত্র পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর। নীতি বিশ্লেষণ, সরকারি সেবা প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআইভিত্তিক করে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি চামড়া শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এবং জ্ঞানভিত্তিক সেবা খাতের বিকাশ জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার চলতি অর্থবছরে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।

চীনের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি জেলায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যও তিনি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রকৃত পরিচয় তাঁর পদবি নয়, বরং কর্ম, সততা ও উদ্ভাবনী চিন্তায়। মানুষের জীবন সহজ করা, সময় সাশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি কর্মকর্তাকে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কর্মসূচি সফল করতে মাঠ প্রশাসনসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও কর্মনিষ্ঠা অপরিহার্য।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ এলেও প্রতিটি সংকটকে সুযোগে রূপ দিতে হবে। জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজ যে সনদ তাঁরা গ্রহণ করছেন, সেটি শিক্ষার সমাপ্তি নয়; বরং আজীবন শিক্ষার নতুন যাত্রার সূচনা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য প্রশাসন, প্রশাসনের জন্য জনগণ নয়’—এই দর্শনকে সামনে রেখেই পাঁচ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুই ব্যাচের ৭৪ জন কর্মকর্তাকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসক হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার, এনএপিডির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির অনুষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন