জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তারের আবেদন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই আদালতে এ আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক লাখ টাকার মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করা হয়।
তার আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন জানান, অন্য কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা ছিল না। তবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় তার মুক্তি আপাতত আটকে গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়।
এ সময় একটি গুলি বাদীর বাম হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক থাকায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।