চাকরিতে এক পদের বিপরীতে পাঁচ-ছয় লাখ আবেদন আসছে: মির্জা ফখরুল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি চাকরির পদের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে। তবে দেশে সেই পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বেকারত্বের সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অফিস সহকারী পদের মতো চাকরিতেও হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে। চাকরির বাজারে এই তীব্র প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে কামার, কুমার, তাঁতি, শিল্পী, খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে ‘অ্যাগ্রিকালচার হাব’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সেগুলো পুনর্গঠনের কাজ করছে। তবে এ কাজ সহজ নয়; এর জন্য আত্মবিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পচনশীল পণ্যের সংরক্ষণ, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন, স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইসলাম এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান। নবীন শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।