‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ভবিষ্যতের শিক্ষা নিয়ে রাওয়ার বিশেষ সভা
জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে যেকোনো অপশক্তি মোকাবিলার আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) মহাখালীস্থ রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) এই সভার আয়োজন করে।
রাওয়া প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের আমলের ধারাবাহিক বঞ্চনাই জুলাই অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তি। আন্দোলন চলাকালে রাজপথের ছাত্র-জনতার পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাহসী অংশগ্রহণ পুরো জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল। জাতীয় প্রেস ক্লাব, শহীদ মিনার, ডিওএইচএস এবং রাওয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সোচ্চার ভূমিকা আন্দোলনে অভূতপূর্ব নৈতিক শক্তি জুগিয়েছিল।’
ইতিহাস বিকৃতি রোধের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার নিরলস কাজ করছে। বৈষম্যের অবসান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় সংহতির মাধ্যমে অতীতের বিভাজন ভুলে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ভাতা, গুরুতর আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসা এবং ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে রাওয়া প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক (অব.) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের সংকটকালে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশকে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে। দুই-একজন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো সংস্থাকে দোষারোপ না করে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অবদানকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। পঁচা অতীত ও হানাহানি ভুলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
লে. জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমি(অবঃ) বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল এবং ১৬ বছরের শাসনতন্ত্রকে পরাস্ত করেছিল। এর মাধ্যমেই আমার মতো অনেকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠ (আয়নাঘর) থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’
তবে বর্তমান বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একটি অরাজনৈতিক ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যা যেকোনো সংকটে দেশপ্রেমিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে।
উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাওয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান (অব.) বীর প্রতীক, রাওয়া ভাইস চেয়ারম্যান মেজর নিয়াজ আহমেদ জাবের, রাওয়ার ক্রীড়া সম্পাদক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ড. মোহাম্মাদ হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া (অব.), জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকবর কামাল (অব.), দৈনিক নয়া দিগন্তের যুগ্ম সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর, জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধসহ শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আহত জুলাই যোদ্ধাগণ এবং অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।