জাতীয় সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ এএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদকে ব্যক্তি নয়, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির পদ কোনো ব্যক্তির বিষয় হিসেবে দেখি না, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি। তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।’
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময়ে দেশের সাংবিধানিক ও আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার কিছু ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগের সংকটময় সময়ে তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতিকে সব ক্ষেত্রে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী তা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে এবং এরপর নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করবে।
তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছুই সংবিধান ও আইনি বিধান অনুসরণ করে হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।’