EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

উজানের ঢলে তিস্তায় সপ্তমবারের মতো পানি বৃদ্ধি, ৫ জেলায় বেড়েছে নদীভাঙন

তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই; নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরের চরাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা ও আতঙ্ক

ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

উজানের ঢলে তিস্তায় সপ্তমবারের মতো পানি বৃদ্ধি, ৫ জেলায় বেড়েছে নদীভাঙন

তিস্তায় পানি ওঠানামার ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও শত শত বিঘা আবাদি জমি। ছবি: ডেইলি সান

অ অ

ভারতের উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরের তিস্তা নদীতে চলতি মৌসুমে সপ্তমবারের মতো পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে বিকেলে পানি কিছুটা কমলেও নদীর পানি ক্রমাগত ওঠানামা করছে। ফলে প্লাবিত অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।

পানি বৃদ্ধিতে রংপুর অববাহিকার হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে সদ্য রোপণ করা শত শত হেক্টর আমনের আবাদ, বীজতলা ও শাকসবজির খেত। পুকুর উপচে মাছ ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা। এছাড়া রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পানির এই ওঠানামায় তিস্তার দুই পারের ২৪২ কিলোমিটার অববাহিকায় অন্তত দেড় শতাধিক স্পটে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ার নোহালী, গজঘণ্টা ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের ২০টি পয়েন্টসহ মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতুর রক্ষা বাঁধ ও ডানতীর রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন চলছে। পাঁচ দিনের ব্যবধানে বহু ঘরবাড়ি ও শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, ‘এবার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বারবার পানি ওঠানামা করছে।’ 

নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ‘পিআইও এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিবরণ জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ‘তিস্তায় পানি কমা-বাড়ার কারণে পানিবন্দী অবস্থার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, ‘তিস্তার ডান তীর রক্ষা করা হলেও বাম তীরের ক্যাচমেন্ট এলাকার জনবসতিগুলোতে ভাঙন ধরেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বেশ কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘তিস্তাসহ বিভাগের নদীগুলোর পরিস্থিতি প্রতিদিন সকালে মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছে। প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ভাঙন রোধে কাজ চলছে এবং মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন