১২ বছর পূর্তি ইউএস-বাংলার, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে আরও ২১ উড়োজাহাজ
শাহাদাত হোসেন
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সফলতার সঙ্গে ১২ বছর পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে নতুন করে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈশ্বিক আকাশপথে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এক লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান সংস্থায় পরিণত হয়েছে। যাত্রীদের আস্থা, সরকারের নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সমর্থন এবং চার হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলস প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং আইওএসএ (IOSA)-এর স্বীকৃতি অর্জন করেছে। নিরাপত্তা, সেবার মান এবং পরিচালন দক্ষতায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিরই স্বীকৃতি এটি।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলাই প্রথম দেশীয় বিমান সংস্থা, যা চীনের কোনো গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলার বহরে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০এনজি যুক্ত হবে। নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু এবং পেনাংয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। ইউএস-বাংলা এবং রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার সম্মিলিত অংশীদারিত্ব মাত্র ২৫ শতাংশ। দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা, সেবার উৎকর্ষ, পরিচালন দক্ষতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে ইউএস-বাংলা ভবিষ্যতেও যাত্রীদের আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক আকাশপথে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।