পুলিশের পোশাকে মহাসড়কে ডাকাতি, র্যাবের হাতে তিন ডাকাত গ্রেপ্তার
ডেইলি সান রিপোর্ট, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পুলিশের পোশাক পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক ব্যবসায়ী পরিবারের গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ও রাতে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—ঢাকার তুরাগ থানার রোশাদিয়া এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৯), মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর এলাকার কাউসার মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া (২৫) এবং একই এলাকার মৃত লালখা মিয়ার ছেলে অহিবুর রহমান (২৫)।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে র্যাব-৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ জুন রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দরা এলাকার ব্যবসায়ী মো. সামছুল আলম সরকার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যক্তিগত টয়োটা অ্যাক্সিও গাড়িতে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২০ জুন রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রসংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পৌঁছালে পুলিশের পোশাক পরা ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি ডাকাত দল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।
একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করা হয়। পরে ডাকাতরা চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে গাড়িটি চালিয়ে সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সামছুল আলম সরকার বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর রেলক্রসিং এলাকায় এবং রাত ৯টা ১০ মিনিটে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে শনাক্ত তিন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ডাকাতি মামলার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে র্যাব থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।