EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেলওয়ের আয় বেড়ে ২ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, কমেছে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

রেলওয়ের আয় বেড়ে ২ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, কমেছে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন উদ্যোগ ও সেবার উন্নয়নের ফলে এ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা।

আয়ের সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৫৬ কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খাতে আয় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে।

এ ছাড়া ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ বাবদ ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে। অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাত—বিশেষ করে ভেন্ডিং লাইসেন্স ও অন্যান্য উৎস থেকে আয় প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়—যার মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত—মোট ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৯। অর্থাৎ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্ন দেখায়। এই ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১ দশমিক ৪৩-এ। অর্থাৎ পেনশন ব্যয় বাদ দিলে রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় আয়ের তুলনায় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যাত্রীভাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকিনির্ভর ও রেয়াতি হারে নির্ধারিত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ভাড়া সমন্বয় করা হলেও গত এক দশকে তা আর বাড়ানো হয়নি। এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের মূল্য, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে রেলভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। তাই শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

আরও পড়ুন