কৃষক কার্ড কর্মসূচি
এ বছর ৪৩ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মধ্যম কচুয়াই ব্লকে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতের একটি সমন্বিত ও আধুনিক তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা, নীতি নির্ধারণ এবং সরকারি সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই থেকে সারা দেশে কৃষক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিবন্ধনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার কৃষক নিবন্ধন করেছেন এবং এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকের জন্য নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষক এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন। কৃষকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিসহ সব ধরনের কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকদের জন্য পৃথক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে তারা সহজে সরকারি সেবা ও সুবিধা পেতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকদের সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, কৃষক কার্ডের তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন ফসল সবচেয়ে ভালো উৎপাদিত হয়, তা সহজেই জানা যাবে। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষজ্ঞ কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগবালাই দমন এবং ফলনের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এতে উৎপাদনের অপচয় কমবে এবং কৃষক আরও লাভবান হবেন।
এ সময় চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।