EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আংকারায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই শহিদ দিবস পালিত

শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনায় উন্নত বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রদূতের

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

আংকারায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই শহিদ দিবস পালিত
অ অ

তুরস্কের রাজধানী আংকারায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান শফিক উদ্দীন। এরপর জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা সভায় দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর মো. আকরাম আলী বলেন, জুলাই শহিদ দিবস শুধু স্মরণের দিন নয়; এটি ন্যায়, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার মূল্যবোধ পুনর্বিবেচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উপস্থাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করাই একটি সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার পূর্বশর্ত।

দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি বলেন, ওই সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং দেশজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। একই সঙ্গে এই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন পথ উন্মোচন করেছে।

সমাপনী বক্তব্যে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুল হক বলেন, জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তাদের আত্মত্যাগ শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশিই দেশের প্রতিনিধি। তাদের কর্মনিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীল আচরণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরে। তাই শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহিদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন