প্রিন্টঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ
বাংলাদেশে অতিরিক্ত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যে পড়তে পারে, সতর্কবার্তা সংস্থাটির
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশঃ ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং এর জেরে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, এ সংকট অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্য হ্রাসে বহু বছরের অর্জিত অগ্রগতি ম্লান হয়ে যাবে এবং লাখ লাখ শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত ‘দ্য ইমপ্যাক্ট অব দ্য ওয়ার ইন দ্য মিডল ইস্ট অন চিলড্রেন ইন মনিটারিলি পুওর হাউজহোল্ডস’ শীর্ষক বিশ্লেষণে বিশ্বের ১৬৭টির বেশি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মূল্য শুধু ওই অঞ্চলের শিশুরাই নয়, বিশ্বের বহু দূরের শিশুরাও দিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অসংখ্য পরিবারের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে থেকেই দরিদ্র শিশুরা সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে।”
প্রতিবেদনে দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাঝারি মাত্রার অর্থনৈতিক অভিঘাতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে। আর সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হলে এ সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ৩৪ লাখে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এশিয়া ও আফ্রিকায়। বৈশ্বিকভাবে নতুন করে দারিদ্র্যে পড়তে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই এই দুই অঞ্চলের হবে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি দেশের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সোমালিয়ায় সংঘাত শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খাদ্য, পানি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে। ইথিওপিয়ায় ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩১ শতাংশ, আর মানবিক সহায়তায় ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ। নাইজেরিয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খাদ্য ও যাতায়াতে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশ সম্পর্কেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মুরগি ও শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে অতিরিক্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যথাসময়ে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে সংঘাত, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ আরও সংকুচিত হবে এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফ সরকার, দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অর্থায়ন বাড়ানো, শিশুবান্ধব নগদ সহায়তা সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, “বিশ্ব যদি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মূল্যবৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাব লাখ লাখ শিশুকে গভীর দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে এবং বহু বছরের উন্নয়ন অর্জন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ
বাংলাদেশে অতিরিক্ত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যে পড়তে পারে, সতর্কবার্তা সংস্থাটির
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং এর জেরে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, এ সংকট অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্য হ্রাসে বহু বছরের অর্জিত অগ্রগতি ম্লান হয়ে যাবে এবং লাখ লাখ শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত ‘দ্য ইমপ্যাক্ট অব দ্য ওয়ার ইন দ্য মিডল ইস্ট অন চিলড্রেন ইন মনিটারিলি পুওর হাউজহোল্ডস’ শীর্ষক বিশ্লেষণে বিশ্বের ১৬৭টির বেশি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মূল্য শুধু ওই অঞ্চলের শিশুরাই নয়, বিশ্বের বহু দূরের শিশুরাও দিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অসংখ্য পরিবারের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে থেকেই দরিদ্র শিশুরা সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে।”
প্রতিবেদনে দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাঝারি মাত্রার অর্থনৈতিক অভিঘাতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে। আর সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হলে এ সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ৩৪ লাখে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এশিয়া ও আফ্রিকায়। বৈশ্বিকভাবে নতুন করে দারিদ্র্যে পড়তে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই এই দুই অঞ্চলের হবে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি দেশের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সোমালিয়ায় সংঘাত শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খাদ্য, পানি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে। ইথিওপিয়ায় ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩১ শতাংশ, আর মানবিক সহায়তায় ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ। নাইজেরিয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খাদ্য ও যাতায়াতে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশ সম্পর্কেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মুরগি ও শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে অতিরিক্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যথাসময়ে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে সংঘাত, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ আরও সংকুচিত হবে এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফ সরকার, দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অর্থায়ন বাড়ানো, শিশুবান্ধব নগদ সহায়তা সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, “বিশ্ব যদি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মূল্যবৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাব লাখ লাখ শিশুকে গভীর দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে এবং বহু বছরের উন্নয়ন অর্জন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”