চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সব কেন্দ্রেই পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ রয়েছে: মাহদী আমিন
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী পরিবেশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, চলমান বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ স্বাভাবিক। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
তিনি জানান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে দেশের অধিকাংশ স্থানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পরীক্ষার্থীরা সরকারের কাছে সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, মানসিক প্রস্তুতি ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। এ কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডের অধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তবে কোথাও কোনো শিক্ষার্থী যেন দুর্ভোগে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি অংশে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও জলাবদ্ধতা বা যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি বা অন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলে তিনি চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের প্রসঙ্গ টেনে মাহদী আমিন বলেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে কেবল একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়েছিলেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়ে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয় এবং বিকল্প ব্যবস্থায় তাদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার ছবি বা ভিডিও পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি নয়। পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা কাম্য নয়।
মাহদী আমিন আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রয়োজন। বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব ধরনের উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে নিজের মেধা ও প্রস্তুতির ওপর আস্থা রেখে পরীক্ষায় মনোযোগী হওয়া উচিত। এই পরীক্ষা শুধু একটি সনদ অর্জনের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস অটুট রাখা এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার যৌথ দায়িত্ব।