বিশ্বমঞ্চে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল হতে চায় বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা গেলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে একটি ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র অনন্য রোল মডেল এবং ইতিবাচক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়নবিষয়ক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে আয়োজিত অংশীজন পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি জেলায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এসব কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তৃণমূল থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও থেরাপি নিশ্চিত করবেন এবং তাদের শিক্ষা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করবেন। এতে চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠবে।
ডা. মুহিত জানান, বর্তমানে সরকারি ডেটাবেজে প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিবন্ধিত থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত এক কোটি মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দয়া বা অনুদাননির্ভর নয়, বরং অধিকারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন কমিটিও কাজ করছে। কমিটিগুলো গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ফলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রতিবন্ধীবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও তাদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তুলতে কাজ করছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে ডা. মুহিত বলেন, জন্ম থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চাহিদা ভিন্ন। সেই চাহিদা অনুযায়ী রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।