EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মরুভূমির খেজুর ফলিয়ে তাক লাগালেন পাবনার সাইফুদ্দিন হিরুক

আটঘরিয়ায় আজওয়া, মরিয়ম, মেজুলসহ ১০-১২ জাতের বিদেশি খেজুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন এক তরুণ, বাগান দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

মরুভূমির খেজুর ফলিয়ে তাক লাগালেন পাবনার সাইফুদ্দিন হিরুক

পাবনার আটঘরিয়ায় সাইফুদ্দিন হিরুকের বাগানে সৌদি জাতের খেজুরের সমারোহ। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মরুভূমির ফল হিসেবে পরিচিত খেজুর এখন ফলছে পাবনার মাটিতেও। একসময় উন্নত জাতের এই খেজুর পুরোপুরি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, সেই খেজুরই সফলভাবে চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন পাবনার উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরুক। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গয়েশপুর এলাকার রাজিবের কাছ থেকে কয়েকটি উন্নত জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের সাইফুদ্দিন হিরুক। প্রথমে ৩৩ শতাংশ জমিতে মাত্র চারটি চারা রোপণ করেন তিনি। অনেকেই তখন তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিদেশি খেজুর হবে না বলে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। তবে তিনি থেমে যাননি। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য, কৃষিবিষয়ক পড়াশোনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তিনি। আজ সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০টি গাছের সমৃদ্ধ একটি খেজুর বাগানে।

এই বাগানে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ১০-১২টি উন্নত জাতের খেজুর রয়েছে, যার মধ্যে আছে আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ, বড়ইসহ বিভিন্ন জাত। প্রতিটি জাতের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য— কিছু গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার কিছু গাছে ইতোমধ্যেই প্রচুর পরিমাণে খেজুর ধরেছে। অনেক গাছ থেকে উন্নতমানের সাকারও উৎপন্ন হয়েছে, যা দিয়ে নতুন বাগান গড়ে তোলা সম্ভব।

বর্তমানে গাছে ঝুলছে খেজুরের থোকা। বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফলভর্তি গাছ, যা এক টুকরো মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর বাগানের আবহ তৈরি করেছে। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ চাষাবাদ সম্পর্কে জানছেন, আবার কেউ নতুন বাগান করার পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।

পুষ্পপাড়া থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, লোকমুখে শুনে এই বাগান দেখতে এসেছেন তিনি এবং দেখে ভালো লেগেছে বলে জানান। খেজুর শুধু সৌদি আরবেই হয় বলে জানতেন তিনি, কিন্তু নিজের এলাকার পাশেই এমন বাগান দেখে খেজুরের বাগান করার শখ জেগেছে বলেও জানান আব্দুল কাইয়ুম।

একদন্তের যুবক রুহুল আমিন বলেন, এখানে খেজুরের বাগান আছে জানার পর থেকে প্রায়ই বিকেলে বাগান দেখতে আসেন তিনি এবং মরুভূমির খেজুর যে এদেশেও জন্মাতে পারে, তার প্রমাণ হিরুক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খেজুরচাষি সাইফুদ্দিন হিরুক বলেন, শখের বসে শুরু করলেও প্রথমে অনেকের তিরস্কার ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিদেশি খেজুরের চাষ সম্ভব নয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছিলেন সে সময়। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় এখন গাছে ফল এসেছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার, আর সরকারি সহযোগিতা পেলে এই খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সঠিক পরিচর্যা, পরাগায়ন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও উন্নত জাতের খেজুর চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হিরুকের এই কাজ প্রশংসার দাবিদার এবং তার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন