চট্টগ্রামে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
ছবি: রবিন চৌধুরী
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামলেও দুর্ভোগ কমেনি। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পানিবন্দী মানুষের ভোগান্তি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের মোট ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, সেখানে বিকল্প উপায়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, এখনো তাঁদের কাছে কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় এখনো অনেক বাড়িঘরে পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অসংখ্য পরিবার শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী। এসব উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
বাঁশখালীর ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, সরল ও কাহারঘোনাসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও সাগরের জোয়ারে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চন্দনাইশেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি পুরোপুরি না নামলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।